রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সৈয়দ শামীম শিরাজী, সিরাজগঞ্জ: গ্রামীণ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প নানা সংকটে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে, কারিগরদের মজুরিবৃদ্ধি, তৈরি সামগ্রী বিক্রয় মূল্য কম, কয়লা মূল্যবৃদ্ধি, বিদেশ থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্টিল সামগ্রী আমদানীসহ চরম আর্থিক সংকট ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কম থাকায় কামার শিল্পটি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্ত আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশি প্রযুক্তি দা, কুড়াল, বেকি, খুন্তি, কাটারিসহ ছোট বড় ছুরি বানাতে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামাররা। হাটবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ইতোমধ্যেই পৌরশহরের বাইরে থেকে গ্রামের লোকজনেরা গরু মহিষ, ছাগল জবাই ও গোশতের কাজের জন্য কামারিদের কাছে প্রয়োজনীয় ধারালো দেশি তৈরি চাকু, বটি, কাটারি, ও ছোট বড় সাইজের ছুরি তৈরির আগম অর্ডার দিতে শুরু করেছেন। তাই প্রত্যেক কামারের দোকানে শুধু টং টং শব্দে এখন মুখরিত। আসন্ন ইদুল আযহাকে সামনে রেখে কামার কর্মকাররা সারাবছরের তুলনায় বর্তমান রাতদিন বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখানকার কর্মকারদের নিপুণ হাতেগড়া তৈরি বটি, ছুরি, কাটারি, কুঠার, লাঙ্গলের ফলাসহ বিভিন্ন সাইজের লৌহজাত দ্রব্য তৈরি করে থাকেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিয়ালকোল হাটের কর্মকার শাহালি এবং বাহিরগোলা বাজারের পলাশ কর্মকার জানান, লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা আমাদের পেশা, বাপ, দাদার পৈত্রিক সূত্রে আমি এই পেশার সাথে জাড়িত আছি। এখানে একটি মাঝারি ধরনের দা ও কাটারি তৈরি করে ওজন অনুযায়ী দুশ’ হতে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর ক’দিন পরই ঈদুল আযহা। ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ কামারপাড়াগুলোতে টুং টাং শব্দে চলছে নির্ঘুম কর্মব্যস্ততা কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দা-বঁটি, ছুরিসহ হরেকরকমের জিনিস তৈরি ও ধারানোর জন্য কামাররা গভীর রাত অবধি কাজ করছেন। গতকাল কামারখন্দ কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, লোকজন পুরনো দা-বঁটি নিয়ে আসছেন ধার দেয়ার জন্য। তবে অনেকেই আসছেন নতুন ছুরি কিংবা দা কিনতে বা বানানোর অগ্রিম অর্ডার দিয়ে যেতে। সেখানে কামারের দোকানে আসা ওহিদ মিয়া বলেন, ঈদের দিন দুই আগে দা-বঁটি নিয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করা সম্ভব হয় না। তাই প্রতি বছরই আমি কোরবানির অন্তত ১৫ দিন আগে দা-বঁটিতে ধার দিই। এবারো এসেছি। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সবচেয়ে বেশি কামারের দোকান রয়েছে। এখানে প্রায় শতাধিক কামার কাজ করেন। বছরের বেশির ভাগ সময় তাদের একটা ব্যস্ততা থাকে কিন্তু কোরবানির সময়টা তাদের জন্য ভরা মৌসুম। এ সময়ে দম ফেলার ফুরসত নেই। কামারখন্দ বাজারের কামার নারায়ণ জানান, এই মৌসুমে তার দৈনিক বিক্রি হয় আট থেকে ৫/৭ হাজার টাকা। কোনো কোনো দিন আরো বেশি। দা কিংবা ছুরি ধার দেয়ার জন্য তিনি নেন ২০-৫০ টাকা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কামারের কাজ করে যাওয়া নারায়ণ এ পেশা ছাড়তে রাজি নন। তিনি এ পেশায় বেশ সফলতা লাভ করেছেন বলেও জানান। তবে ভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিয়ালকোলের কামার হরি দাস। তার বক্তব্য, কামার শিল্প এখন আর আগের জায়গায় নেই। এখন এগুলো মেশিনেই তৈরি হচ্ছে। গত কয়েক বছর দেখা যাচ্ছে, বাজারে পাকা লোহার ছুরির চেয়ে চাইনিজ ছুরিই বেশি চলছে। তিনি আরো বলেন, কামাররা যে পরিমাণ পরিশ্রম করে সে অনুযায়ী তারা মাইনে পায়। সেখানে একটা দেশি ছুরি দাম ২০০ টাকা সেখানে একটি চাইনিজ ছুরি পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকায়। আর সারা বছর তো কাজ নেই বললেই চলে। বলুন, এ শিল্প বাঁচবে কীভাবে? এব্যাপারে তাই ভুক্তভোগিরা এ শিল্পকে বাচিয়ে রাখার জন্য সহজ শর্তে প্রয়োজনীয় ঋণ ও সরকারের পৃষ্ঠপোশকতা কামনা করেছে।     সূত্র: https://www.facebook.com/Sirajganj24

সম্পর্কিত সংবাদ

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ফিরলেন সাকিব

ক্রিকেট

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ফিরলেন সাকিব

স্পোর্টস ডেস্কঃ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের পর আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়েও ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির সর্বশেষ হ...

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

আইন-আদালত

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড...

অপরূপ সাজে সেজেছে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি

জাতীয়

অপরূপ সাজে সেজেছে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আগামী মঙ্গলবার রবি কবির ১৫৭তম জন্ম তীথি। এ উপলক্ষে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপ...

ইচ্ছাকৃতভাবে কাশি দিলে লাল কার্ড

খেলাধুলা

ইচ্ছাকৃতভাবে কাশি দিলে লাল কার্ড

করোনা ভাইরাস মহামারীতে মাঠের ফুটবল নিয়ম হচ্ছে কঠোর। আগে খেলা চলাকালে কাউকে উদ্দেশ্য করে থুথু মারলে,কিংবা ইচ্ছাকৃত কাশি দ...