শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমঃ নানা সমস্য ও সংটের মাঝেও নব উদ্যোগ, উদ্যোম ও উৎসাহের নব যাত্রাপথে এগিয়ে চলছে ইব্রাহিম মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় ৯৩৩ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়মিত পাঠদান করা হচ্ছে স্কুলটিতে। ৪ জন শিক্ষক ও ১২ জন শিক্ষয়িত্রী তাদের মেধা এবং শ্রম দিয়ে নিয়মিত শিক্ষাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে ৪৩৭ জন ছাত্র ও ৪৯৬ জন ছাত্রী। সংখ্যা হিসেবে ছাত্র সংখ্যার চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশী। বিষয়টি বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষা স্বচেতনতা অগ্রগতির ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক প্রতিফলন। তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ( রাকসুর সাবেক ভিপি,জিএস) মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ৭০’র নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ আসনে বিজয়ী এমসিএ প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুর রহমানের স্বক্রিয় সহযোগিতায় ১৯৭০ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়। পরবর্তী তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই সরকারী করনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্কুলটির শুভযাত্রা।
সবচেয়ে খুশি ও আনন্দের বিষয় এই যে, বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে ঢোকার আগে জাতীয় পতাকার সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শপথবাক্য পাঠ ও জাতীয় সঙ্গীত গায়। এ অভূতপূর্ব দৃশ্য হৃদয় ও মনকে আন্দোলিত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৩ বছর পার হলেও বাংলাদেশের কয়টি বিদ্যালয়ে এ চর্চা হয় জানা নেই। এ প্রতিবেদক একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটুকু সাক্ষ্য দিতে পারি যে, বাংলাদেশের সিংভাগ বিদ্যালয়গুলোতে এ চর্চা নেই। প্রতিবেদকের সামনে শিশুরা যখন মুষ্টিবদ্ধ হাত সম্মুখের দিকে তুলে একসাথে যখন বলতে শুরু করলো “আমি শপথ করছি যে, মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। দেশের প্রতি অনুগত থাকবো। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখার জন্য স্বচেষ্ট থাকবো। হে প্রভু আমাকে শক্তিদিন। আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালি রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে পারি। আমিন”। এরপর একসাথে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। শিশুদের এ শপথ বাক্যপাঠ এবং জাতীয় সঙ্গীদের সুর যেন প্রতিবেদকে সেই ৭১’র রণাঙ্গনে ফিরিয়ে নিয়ে যায় । আবেগঘন মুহুর্তে অশ্রুভেজা চোখে প্রতিবেদকের হৃদয়ে নিংড়ানোর ভাষা দিয়ে শিশুদের শোনাতে হলো স্বাধীনতা, পতাকা প্রাপ্তি এবং শপথ বাক্যের মর্মকথা। বর্তমান দেশের প্রেক্ষাপটে শিশুমনে এ প্রতিজ্ঞা ও শপথ এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার যে নিয়ম এটি চালু থাকলে নতুন প্রজন্ম রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হবে।
কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ময়নুল ইসলাম সরকারের সাথে। তিনি জানান, দুই সিপ্টে ৯ শ্রেনী কক্ষে বিশাল সংখ্যার এই শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিদ্যালয়টি মোট ২৫ শতক ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠা পেলেও বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একটি দ্বিতল ভবন ও দক্ষিন পাশে একটি একতলা ভবন রয়েছে । স্থান সংকুলান না হলেও এ দুই ভবনের ৯টি শ্রেনী কক্ষে কষ্ট করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। সকাল ৯ টার প্রথম সিপ্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়। দুপুর ১২ টায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনী ছুটি হলে এরপর পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ হয় তৃতীয় ও চতুুুুর্থ শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীরা। ক্লাস চলে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। উত্তর দক্ষিণের দুই ভবনের মাঝের ছোট্ট খোলা চত্তরটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য একমাত্র উন্মুক্ত স্থল। যে স্থানে একসাথে দাঁড়াবার স্থান সংকুলন হয় না শ্রেনী কক্ষের একটি রুমে সহকারী শিক্ষকেরা বসেন। সম্প্রতি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশ অধিদপ্তর কর্তৃক ফিমের টয়লেট নির্মান করা হয়। এ নির্মান কাজ সন্তোষ জনক নয়। প্রধান শিক্ষক তৎপর হলেও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর টয়লেটটি বিদ্যালয়ে কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এভাবে নানা সমস্যা নিয়েই বিদ্যালয়টির সুষ্ঠ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। সবশেষে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষয়িত্রীর হাতে পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেয়া হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ
বন্যা
শাহজাদপুরে যমুনার তীব্র ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারাচ্ছে মানুষ
শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, শামছুর রহমান শিশির, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর - ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : বন্...
শাহজাদপুর
মিষ্টান্ননগরী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে ছোট-বড় অনেক জমিদার ছিল। বিভিন্ন উৎসব-পূজা-পার্বণে তারা প্রজাদের নিমন্ত্রণ করে পেটপুরে মিষ্টি খাওয়াতেন। তারা ব...
জাতীয়
শাহজাদপুরে যথাযথ মর্যাদায় উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস পালিত
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শাহজাদপুরে যথাযথ মর্যাদায় বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন নানা অনুষ...
জীবনজাপন
শাহজাদপুরের আদিবাসী বাগদী পরিবারগুলোর মানবেতর জীবন
শামছুর রহমান শিশির : বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোট গল্প ‘পোষ্ট মাস্টার’-এর রতন চরিত্রটি শা...
