বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচিত নাম ‘হিরো আলম’। ইউটিউবে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন বগুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে হিরো আলম। মানুষের মুখে মুখে তার নাম। সম্প্রতি কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়ে আবার আলোচনায় তিনি।
এবার আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর কারণ হলো টাঙ্গাইলের পশুর হাটে এবার উঠবে প্রায় চার বছর বয়সী ও ৩১ মণ ওজনের ‘হিরো আলম’ নামের একটি ষাঁড়। যার দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। ফ্রিজিয়ান জাতের ওই ষাঁড়টি লম্বায় সাড়ে ৮ ফুট আর উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের প্রবাসী কামরুজ্জামানের স্ত্রী জয়নব বেগমের খামারের গরু এই ‘হিরো আলম’।

প্রতি বছরের মতো এবারো কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য তিনটি গরু প্রস্তুত করেছেন জয়নব বেগম। তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাঁড় ‘হিরো আলমের’ ওজন প্রায় ৩১ মণ। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি তিনি প্রায় দেড় বছর আগে পাবনা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় কেনেন। এরপরই ষাঁড়টির নামকরণ করা হয় আলোচনার শীর্ষে থাকা ‘হিরো আলমের’ নামে।
‘হিরো আলমের’ নামে নামকরণ করাসহ বেশ বড় আকৃতির হওয়ায় স্থানীয়রা জয়নব বেগমের বাড়িতে ষাঁড়টি দেখতে ভিড় করছেন।
ষাঁড়টি এবার ঢাকার অন্যতম গাবতলী পশুর হাটে বিক্রির জন্য উঠানো হবে। এর দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। এর আগে জয়নব বেগমের খামার থেকে গত বছর বিক্রি হওয়া ষাঁড়টির নাম ছিল ‘সোনা বাবু’। সেটির ওজন ছিল প্রায় ৩৫ মণ।
ঢাকার গাবতলীর হাটে গত বছর জয়নব বেগমের সোনা বাবুর দাম ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন ক্রেতারা। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বাড়িতে ফেরত আনতে গিয়ে গাড়ি থেকে নামানোর সময় ওই ষাঁড়টির পা ভেঙে যায়। এরপর ষাঁড়টি তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। ওই সময় জয়নব বেগম বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
খামারি জয়নব বেগম বলেন, প্রতি বছরই আমি কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ষাঁড় তৈরি করি। এবারো তিনটি ষাঁড় তৈরি করেছি। খামারে সবচেয়ে বড় গরু ‘হিরো আলমের’ ওজন এখন প্রায় ৩১ মণ। তাকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। আমার পাশাপাশি শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ গরুগুলো লালন-পালনে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে আমার স্বামীও দেশে এসেছেন। তিনিও গরুগুলো দেখাশোনা করছেন।’
গরুটির নামকরণ প্রসঙ্গে এই খামারি বলেন, “অনেকেই গরুর নাম রাখেন শাকিব খান, ডিপজল, সুলতান, সিন্দবাদ, মানিক, রতন, রাজা-বাদশা, খোকাবাবু। তাই আমিও গরুটির নাম রেখেছি ‘হিরো আলম’। হিরো আলম এখন অনেক জনপ্রিয়। আমার গরুটিও উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়। এজন্য হিরো আলমের নামেই ষাঁড়টির নাম রেখেছি। আমরা সবাই গরুটিকে ‘হিরো আলম’ বলেই ডাকি।”

জয়নব বেগমের স্বামী কামরুজ্জামান বলেন, গরু লালন-পালন করতে আমার খুব ভালো লাগে। প্রবাসে যাওয়ার আগে আমি নিজেই গরুর খামার করেছিলাম। আমি প্রবাসে থাকায় স্ত্রীকে দিয়ে প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য গরু প্রস্তুত করছি। এবারো তিনটি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘হিরো আলম’ নামের ষাঁড়টি সবচেয়ে বড়। তাকে এবার বিক্রি করা হবে। আমরা ষাঁড়টির দাম চাচ্ছি ১২ লাখ টাকা। ষাঁড়টি বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে চিন্তিত তিনি।
দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনায়েত করিম বলেন, নিয়মিত ষাঁড়টি দেখাশোনা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে লালন-পালন করছেন জয়নব বেগম। তার ষাঁড়টিই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়।
তিনি আরও বলেন, লকডাউনের কারণে কোরবানির পশু বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে খামারিরা চিন্তিত। আমরা অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য অ্যাপ তৈরি করেছি। ওই অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ
শাহজাদপুর
মিষ্টান্ননগরী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে ছোট-বড় অনেক জমিদার ছিল। বিভিন্ন উৎসব-পূজা-পার্বণে তারা প্রজাদের নিমন্ত্রণ করে পেটপুরে মিষ্টি খাওয়াতেন। তারা ব...
জাতীয়
শাহজাদপুরে যথাযথ মর্যাদায় উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস পালিত
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শাহজাদপুরে যথাযথ মর্যাদায় বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন নানা অনুষ...
জীবনজাপন
শাহজাদপুরের আদিবাসী বাগদী পরিবারগুলোর মানবেতর জীবন
শামছুর রহমান শিশির : বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোট গল্প ‘পোষ্ট মাস্টার’-এর রতন চরিত্রটি শা...
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতিঃ পানি বিপদ সীমার ৪১ সেঃ মিঃ উপরে
প্রেম এক অদ্ভুত শক্তির নাম। প্রেমের চৌম্বক টানে প্রেমিক যেমন আকৃষ্ট হয় প্রেমিকার প্রতি,...
আন্তর্জাতিক
“ভালবাসা নিয়ে কবি, দার্শনিক ও লেখকদের নানা বাক্যের সমাহার”
